বাংলাদেশে শিশুদের মাথার চামড়ার বিভিন্ন টিউমার ও গুটির লক্ষণ এবং চিকিৎসা

শিশুদের মাথার চামড়ায় কী কী টিউমার হতে পারে?

শিশুদের মাথার চামড়ায় কী কী টিউমার হতে পারে: বাবা-মায়ের জন্য সহজ ও বিস্তারিত নির্দেশনা

শিশুর মাথার চামড়ায় ছোট গুটি, জন্মগত ফোলা, নরম বা শক্ত চাকা, লালচে দাগ কিংবা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকা কোনো মাংসল অংশ দেখা গেলে বাবা-মায়ের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। তবে মাথার চামড়ার সব গুটি বা ফোলা ক্যানসার নয়। শিশুদের মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পে জন্মগত সিস্ট, চর্বির গুটি, রক্তনালির অস্বাভাবিকতা, নার্ভের টিউমার, চামড়ার নিরীহ টিউমার এবং বিরল ক্ষেত্রে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হতে পারে।

অনেক সময় সাধারণ সিস্ট, জন্মদাগ, সংক্রমণ বা আঘাতজনিত ফোলাও টিউমারের মতো দেখাতে পারে। আবার দেখতে নিরীহ মনে হলেও কোনো গুটির সঙ্গে মাথার খুলি, মস্তিষ্কের আবরণ বা মাথার ভেতরের গঠনের সংযোগ থাকতে পারে। বিশেষ করে শিশুর মাথার মাঝামাঝি অংশে জন্মগত গুটি, চুলের গোছাসহ ত্বকের অস্বাভাবিকতা, বারবার সংক্রমণ বা গুটি থেকে তরল বের হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাই শিশুর মাথার চামড়ায় কোনো গুটি দেখা দিলে শুধু হাত দিয়ে পরীক্ষা, মালিশ বা ঘরোয়া চিকিৎসা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী শিশু বিশেষজ্ঞ, পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জন, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নেফাউর’স নিউরো কেয়ার জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ব্রেইন, মাথার খুলি, মাথার চামড়া, নার্ভ, স্পাইন, স্ট্রোক এবং সংশ্লিষ্ট নিউরোসার্জিক্যাল ও নিউরোলজিক্যাল সমস্যার মূল্যায়ন, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও ফলোআপ সেবা প্রদান করে।

মাথার চামড়ার টিউমার বলতে কী বোঝায়?

মাথার চামড়া বা স্ক্যাল্প কয়েকটি স্তর দিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে—

  • চামড়া
  • চামড়ার নিচের চর্বির স্তর
  • সংযোজক টিস্যু
  • রক্তনালি
  • নার্ভ
  • পেশি ও মাথার খুলির আবরণ

এই স্তরগুলোর যেকোনোটি থেকে অস্বাভাবিক গুটি বা টিউমার তৈরি হতে পারে। কিছু গুটি জন্মের সময় থেকেই থাকে, কিছু শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে দেখা দেয় এবং কিছু গুটি সংক্রমণ, প্রদাহ বা আঘাতের পর ধরা পড়ে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে সব অস্বাভাবিক গুটিকে ক্যানসার বলা হয় না। মাথার চামড়ায় হতে পারে—

  • বিনাইন বা নিরীহ টিউমার
  • জন্মগত সিস্ট
  • রক্তনালির ক্ষত
  • নার্ভজাত টিউমার
  • প্রদাহজনিত বা সংক্রমণজনিত গুটি
  • মাথার খুলি থেকে উৎপন্ন ক্ষত
  • বিরল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার

শিশুদের মাথার চামড়ায় সাধারণত কী কী গুটি বা টিউমার হতে পারে?

১. ডারময়েড সিস্ট

ডারময়েড সিস্ট শিশুদের মাথা ও মুখমণ্ডলে দেখা যাওয়া একটি পরিচিত জন্মগত গুটি। ভ্রূণের বিকাশের সময় চামড়ার কিছু কোষ ভেতরে আটকে গেলে এই সিস্ট তৈরি হতে পারে।

এটি সাধারণত—

  • গোলাকার
  • ধীরে ধীরে বড় হয়
  • ব্যথাহীন
  • ত্বকের নিচে নড়াচড়া করতে পারে
  • শক্ত বা রাবারের মতো অনুভূত হয়
  • জন্মের সময় থাকতে পারে বা পরে চোখে পড়ে

ডারময়েড সিস্ট মাথার কপাল, ভ্রুর পাশে, মাথার পেছনে অথবা মধ্যরেখার কাছাকাছি হতে পারে।

কেন মধ্যরেখার ডারময়েড বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

মাথার মাঝামাঝি বা মধ্যরেখায় থাকা কিছু ডারময়েড সিস্টের সঙ্গে মাথার খুলি বা মস্তিষ্কের আবরণের গভীর সংযোগ থাকতে পারে। কখনো একটি সরু সাইনাস ট্র্যাক মাথার ভেতরের দিকে যেতে পারে।

তাই মাথার মধ্যরেখায় জন্মগত গুটি হলে সরাসরি অপারেশন করার আগে প্রয়োজন অনুযায়ী CT Scan বা MRI করা জরুরি হতে পারে।

চিকিৎসা

ডারময়েড সিস্ট সাধারণত পরিকল্পিত অপারেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। সিস্টের দেয়াল সম্পূর্ণ অপসারণ না হলে আবার হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

২. এপিডারময়েড সিস্ট

এপিডারময়েড সিস্ট দেখতে ডারময়েড সিস্টের মতো হতে পারে। এর ভেতরে সাধারণত কেরাটিনজাত পদার্থ জমে থাকে।

এটি হতে পারে—

  • ধীরে বড় হওয়া
  • ব্যথাহীন
  • ত্বকের নিচে গোলাকার
  • সংক্রমিত হলে লাল, ব্যথাযুক্ত বা পুঁজপূর্ণ

এপিডারময়েড সিস্ট মাথার চামড়ায় একক বা একাধিক হতে পারে।

চিকিৎসা

ছোট ও উপসর্গহীন সিস্ট কখনো পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। তবে সিস্ট বড় হলে, ব্যথা করলে, বারবার সংক্রমিত হলে অথবা রোগ নির্ণয় নিশ্চিত না হলে অপারেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপসারণ বিবেচনা করা হয়।

৩. পাইলার বা ট্রাইকিলেমাল সিস্ট

পাইলার সিস্ট চুলের ফলিকল থেকে তৈরি হয় এবং মাথার চামড়ায় বেশি দেখা যায়। এটি শিশুদের তুলনায় বড়দের মধ্যে বেশি হলেও কিশোর বয়সে দেখা যেতে পারে।

লক্ষণ হতে পারে—

  • মাথার ত্বকে শক্ত গোলাকার গুটি
  • সাধারণত ব্যথাহীন
  • ধীরে ধীরে বড় হওয়া
  • সংক্রমিত হলে ব্যথা ও লালভাব

পাইলার সিস্টকে অনেক পরিবার “চর্বির গুটি” মনে করেন, কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।

৪. লিপোমা বা চর্বির টিউমার

লিপোমা হলো চর্বিযুক্ত টিস্যুর একটি সাধারণ বিনাইন টিউমার। শিশুদের মাথার চামড়ায় এটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও হতে পারে।

লিপোমা সাধারণত—

  • নরম
  • চাপ দিলে নড়াচড়া করে
  • ব্যথাহীন
  • ধীরে ধীরে বড় হয়
  • ওপরের ত্বক স্বাভাবিক থাকে

তবে মাথার মধ্যরেখা, ঘাড়ের পেছনে অথবা জন্মগত চামড়ার অস্বাভাবিকতার সঙ্গে লিপোমা থাকলে গভীর সংযোগ আছে কি না পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা

ছোট ও কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে না—এমন লিপোমা পর্যবেক্ষণ করা যায়। দ্রুত বড় হলে, ব্যথা করলে, সৌন্দর্যগত সমস্যা তৈরি করলে বা রোগ নির্ণয় অনিশ্চিত হলে অপারেশন করা হতে পারে।

৫. হেম্যানজিওমা

হেম্যানজিওমা রক্তনালির কোষের একটি বিনাইন বৃদ্ধি। এটি জন্মের সময় ছোট থাকতে পারে এবং জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর দ্রুত বড় হতে পারে।

এর বৈশিষ্ট্য হতে পারে—

  • উজ্জ্বল লাল রঙের উঁচু দাগ
  • নীলচে বা বেগুনি নরম ফোলা
  • চাপ দিলে কিছুটা ছোট হওয়া
  • প্রথম কয়েক মাস দ্রুত বৃদ্ধি
  • পরে ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসা

মাথার চামড়ার বড় হেম্যানজিওমা থেকে ক্ষত, রক্তপাত বা আলসার হতে পারে।

কখন চিকিৎসা জরুরি?

  • দ্রুত বড় হলে
  • চোখ, কান বা শ্বাসপথের কাছাকাছি হলে
  • বারবার রক্তপাত হলে
  • ত্বকে ক্ষত তৈরি হলে
  • শিশুর মাথার বড় অংশ জুড়ে থাকলে
  • শরীরের অন্য অঙ্গের সমস্যার সন্দেহ থাকলে

চিকিৎসা

চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—

  • পর্যবেক্ষণ
  • ওষুধ
  • ক্ষতের স্থানীয় পরিচর্যা
  • নির্বাচিত ক্ষেত্রে লেজার
  • বিরল ক্ষেত্রে সার্জারি

কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে তা শিশুর বয়স, অবস্থান, আকার ও জটিলতার ওপর নির্ভর করে।

৬. ভাসকুলার ম্যালফরমেশন

ভাসকুলার ম্যালফরমেশন হলো রক্তনালি বা লসিকানালির জন্মগত গঠনগত অস্বাভাবিকতা। এগুলো হেম্যানজিওমার মতো হলেও সাধারণত নিজে থেকে সরে যায় না এবং শিশুর সঙ্গে ধীরে ধীরে বড় হতে পারে।

প্রধান ধরন—

  • ভেনাস ম্যালফরমেশন
  • লিমফ্যাটিক ম্যালফরমেশন
  • আর্টেরিওভেনাস ম্যালফরমেশন বা AVM
  • ক্যাপিলারি ম্যালফরমেশন

লক্ষণ

  • নীলচে বা বেগুনি ফোলা
  • কান্না বা মাথা নিচু করলে আকার বাড়া
  • চাপ দিলে কিছুটা ছোট হওয়া
  • স্পন্দন অনুভূত হওয়া
  • ব্যথা বা রক্তপাত
  • বারবার ফুলে যাওয়া
  • ওপরের ত্বকের রঙ পরিবর্তন

পরীক্ষা

প্রয়োজন অনুযায়ী করা হতে পারে—

  • Doppler Ultrasound
  • MRI
  • MR Angiography
  • CT Angiography
  • Conventional Angiography

চিকিৎসা

ধরন অনুযায়ী—

  • পর্যবেক্ষণ
  • স্ক্লেরোথেরাপি
  • এম্বোলাইজেশন
  • লেজার
  • সার্জারি
  • সমন্বিত চিকিৎসা

প্রয়োজন হতে পারে।

৭. সাইনাস পেরিক্রানি

সাইনাস পেরিক্রানি মাথার চামড়ার শিরা ও মাথার ভেতরের ভেনাস সাইনাসের মধ্যে অস্বাভাবিক সংযোগ। এটি মাথার ত্বকে নরম ফোলা হিসেবে দেখা দিতে পারে।

ফোলাটি—

  • শুয়ে থাকা বা মাথা নিচু করলে বড় হতে পারে
  • দাঁড়ালে বা মাথা উঁচু করলে ছোট হতে পারে
  • চাপ দিলে নরম হতে পারে
  • কাশি বা কান্নার সময় ফুলে উঠতে পারে

এটি সাধারণ গুটি মনে করে সুচ ঢোকানো বা কাটার চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এর সঙ্গে মাথার ভেতরের বড় শিরার সংযোগ থাকতে পারে।

পরীক্ষা

  • Doppler Ultrasound
  • MRI ও MR Venography
  • CT Venography
  • প্রয়োজন অনুযায়ী Angiography

চিকিৎসা

উপসর্গ, রক্তপ্রবাহ ও ভেতরের সংযোগের ওপর ভিত্তি করে পর্যবেক্ষণ, সার্জারি অথবা এন্ডোভাসকুলার চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়।

৮. নেভাস সেবাসিয়াস

নেভাস সেবাসিয়াস একটি জন্মগত চামড়ার ক্ষত, যা সাধারণত মাথার চামড়া বা মুখে দেখা যায়।

এটি হতে পারে—

  • হলদে বা কমলা রঙের চ্যাপ্টা দাগ
  • ওই স্থানে চুল না থাকা
  • বয়স বাড়ার সঙ্গে মোটা বা খসখসে হওয়া
  • কৈশোরে বেশি স্পষ্ট হওয়া

এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিনাইন। তবে সময়ের সঙ্গে এর ওপর অন্য ধরনের চামড়ার টিউমার তৈরি হতে পারে বলে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

চিকিৎসা

চর্মরোগ বা সার্জারি বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নে পর্যবেক্ষণ অথবা পরিকল্পিত অপসারণ বিবেচনা করা হতে পারে।

৯. মেলানোসাইটিক নেভাস বা জন্মগত তিল

জন্মগত তিল মাথার চামড়াতেও হতে পারে। ছোট তিল সাধারণত নিরীহ হলেও বড় congenital melanocytic nevus-এর ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

সতর্কতার লক্ষণ—

  • দ্রুত আকার বাড়া
  • রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন
  • কিনারা অনিয়মিত হওয়া
  • বারবার রক্তপাত
  • ক্ষত তৈরি হওয়া
  • নতুন শক্ত গুটি তৈরি হওয়া
  • চুলকানি বা ব্যথা

তবে শিশুর বৃদ্ধির সঙ্গে তিলের আকার কিছুটা বাড়া সবসময় অস্বাভাবিক নয়। পরিবর্তনের ধরন চিকিৎসককে দেখানো জরুরি।

১০. পাইলোম্যাট্রিকোমা

পাইলোম্যাট্রিকোমা চুলের ফলিকল থেকে উৎপন্ন একটি বিনাইন টিউমার। শিশু ও কিশোরদের মাথা, মুখ ও ঘাড়ে এটি দেখা যেতে পারে।

এটির বৈশিষ্ট্য—

  • ত্বকের নিচে শক্ত গুটি
  • হাড়ের মতো শক্ত মনে হতে পারে
  • ত্বক নীলচে বা লালচে হতে পারে
  • সাধারণত ধীরে বড় হয়
  • চাপ দিলে কখনো ব্যথা হতে পারে

এটি অনেক সময় সিস্ট বা লিম্ফ নোড বলে ভুল হতে পারে।

চিকিৎসা

সাধারণত অপারেশনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয় এবং টিস্যু হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষায় পাঠানো হয়।

১১. ফাইব্রাস টিউমার বা ফাইব্রোমা

ফাইব্রাস টিস্যু থেকে মাথার চামড়ায় বিভিন্ন ধরনের বিনাইন গুটি তৈরি হতে পারে।

এগুলো সাধারণত—

  • শক্ত
  • ধীরে বড় হয়
  • ব্যথাহীন
  • ত্বকের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে

তবে কিছু ফাইব্রাস টিউমার আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে। তাই দ্রুত বৃদ্ধি বা গভীর সংযোগ থাকলে বিস্তারিত পরীক্ষা প্রয়োজন।

১২. নিউরোফাইব্রোমা

নিউরোফাইব্রোমা নার্ভের আবরণ থেকে তৈরি একটি বিনাইন টিউমার। এটি একক হতে পারে বা Neurofibromatosis Type 1 নামের জেনেটিক রোগের অংশ হতে পারে।

লক্ষণ হতে পারে—

  • নরম বা রাবারের মতো গুটি
  • ত্বকের রঙের বা বাদামি
  • চাপ দিলে ভেতরে ঢুকে যাওয়ার মতো
  • একটি বা একাধিক
  • কখনো ব্যথা, ঝিনঝিনি বা স্পর্শে অস্বস্তি

শিশুর শরীরে অনেকগুলো café-au-lait দাগ, বগল বা কুঁচকিতে ছোট দাগ এবং একাধিক গুটি থাকলে জেনেটিক বা নিউরোলজিক্যাল মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

১৩. শোয়ানোমা

শোয়ানোমা নার্ভের Schwann cell থেকে তৈরি টিউমার। শিশুদের মাথার চামড়ায় বিরল হলেও কোনো ত্বকীয় বা উপত্বকীয় নার্ভ থেকে হতে পারে।

এটি সাধারণত—

  • ধীরে বড় হয়
  • চাপ দিলে ব্যথা বা বৈদ্যুতিক অনুভূতি হতে পারে
  • নার্ভের পথে ঝিনঝিনি সৃষ্টি করতে পারে
  • শক্ত বা রাবারের মতো অনুভূত হয়

অপারেশনের সময় সংশ্লিষ্ট নার্ভ সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।

১৪. মেনিনগোসিল বা এনকেফালোসিলজাত জন্মগত ফোলা

মাথার চামড়ার কিছু জন্মগত ফোলা প্রকৃতপক্ষে শুধু ত্বকের টিউমার নয়; খুলির ত্রুটির মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কের আবরণ, CSF বা মস্তিষ্কের টিস্যু বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে।

এগুলো হতে পারে—

  • অক্সিপিটাল এনকেফালোসিল
  • অ্যাট্রেটিক এনকেফালোসিল
  • প্যারিয়েটাল এনকেফালোসিল
  • ছোট মেনিনগোসিল

সতর্কতার লক্ষণ

  • জন্মের সময় থেকে মাথায় ফোলা
  • মাথার মাঝামাঝি অংশে অবস্থান
  • কান্নার সময় ফোলা বড় হওয়া
  • ফোলার ওপর অস্বাভাবিক চুল
  • তরল বের হওয়া
  • মাথার খুলিতে ত্রুটি
  • ফোলার সঙ্গে স্নায়বিক সমস্যা

এ ধরনের ফোলা কখনো কাটা, সুচ দেওয়া বা বায়োপসি করার আগে অবশ্যই প্রয়োজনীয় MRI বা CT মূল্যায়ন করা উচিত।

১৫. অ্যাপ্লাসিয়া কিউটিসের সঙ্গে গুটি বা ক্ষত

কিছু শিশু মাথার চামড়ার একটি অংশ অনুপস্থিত অবস্থায় জন্মাতে পারে, যাকে Aplasia Cutis Congenita বলা হয়। এটি টিউমার নয়, তবে শুকনো ক্ষত, পাতলা ঝিল্লি বা দাগের মতো দেখাতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে এর নিচে মাথার খুলির হাড়ের ত্রুটি বা ভেনাস সাইনাস থাকতে পারে। তাই বড় বা মধ্যরেখার ক্ষতে বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন জরুরি।

১৬. ল্যাঙ্গারহ্যান্স সেল হিস্টিওসাইটোসিস

Langerhans Cell Histiocytosis বা LCH মাথার খুলি আক্রান্ত করে ওপরের চামড়ায় ফোলা তৈরি করতে পারে। ফলে এটি মাথার চামড়ার টিউমার বলে মনে হতে পারে।

লক্ষণ হতে পারে—

  • ব্যথাযুক্ত ফোলা
  • মাথার খুলিতে গর্ত
  • ত্বক লাল হওয়া
  • একই সঙ্গে শরীরের অন্য হাড়ে ব্যথা
  • কানের আশপাশে ফোলা
  • চোখের চারপাশে ফোলা

এ ক্ষেত্রে শুধু চামড়ার গুটি অপসারণ নয়; মাথার খুলি ও শরীরের অন্য অংশও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

১৭. অস্টিওমা ও মাথার খুলির হাড়ের বিনাইন টিউমার

মাথার খুলির হাড় থেকে শক্ত গুটি তৈরি হতে পারে, যা চামড়ার নিচে টিউমার বলে মনে হয়।

অস্টিওমা সাধারণত—

  • খুব শক্ত
  • হাড়ের সঙ্গে স্থির
  • ধীরে বাড়ে
  • সাধারণত ব্যথাহীন

CT Scan-এর মাধ্যমে হাড়ের গঠন মূল্যায়ন করা হয়।

১৮. ফাইব্রাস ডিসপ্লাসিয়া

ফাইব্রাস ডিসপ্লাসিয়ায় স্বাভাবিক হাড়ের জায়গায় অস্বাভাবিক ফাইব্রাস টিস্যু তৈরি হয়। মাথার খুলিতে হলে এক পাশ ফুলে যাওয়া বা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো দেখা যেতে পারে।

লক্ষণ—

  • মাথা বা মুখের এক পাশে ফোলা
  • ধীরে ধীরে বিকৃতি
  • চোখ বা কানের ওপর চাপ
  • মাথাব্যথা
  • দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তিতে পরিবর্তন

চিকিৎসা রোগের অবস্থান, বৃদ্ধি এবং উপসর্গের ওপর নির্ভর করে।

১৯. সংক্রমণজনিত ফোলা বা অ্যাবসেস

সব মাথার গুটি টিউমার নয়। চুলের গোড়ার সংক্রমণ, ফোঁড়া, সেবাসিয়াস সিস্টের সংক্রমণ বা মাথার খুলির সংক্রমণেও ফোলা হতে পারে।

সংক্রমণের লক্ষণ—

  • ব্যথা
  • লালভাব
  • গরম অনুভূত হওয়া
  • পুঁজ
  • জ্বর
  • দ্রুত ফুলে ওঠা

অ্যাবসেস নিজে সুচ দিয়ে ফাটানো বিপজ্জনক। চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক, ড্রেনেজ বা অন্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

২০. বিরল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার

শিশুদের মাথার চামড়ায় ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বিরল। তবে হতে পারে—

  • Rhabdomyosarcoma
  • Fibrosarcoma
  • Dermatofibrosarcoma protuberans
  • Angiosarcoma
  • Lymphoma
  • শরীরের অন্য ক্যানসার থেকে ছড়িয়ে আসা ক্ষত

সতর্কতার লক্ষণ

  • খুব দ্রুত বড় হওয়া
  • শক্ত ও গভীরভাবে স্থির থাকা
  • বারবার রক্তপাত
  • ত্বকে ক্ষত বা আলসার
  • তীব্র ব্যথা
  • ওজন কমা
  • জ্বর বা দুর্বলতা
  • চিকিৎসার পরও বারবার ফিরে আসা
  • কাছাকাছি লিম্ফ নোড বড় হওয়া

এ ধরনের লক্ষণ থাকলেই ক্যানসার নিশ্চিত নয়, তবে দ্রুত পরীক্ষা প্রয়োজন।

মাথার চামড়ার গুটি দেখে কীভাবে ধারণা পাওয়া যায়?

শুধু বাহ্যিক চেহারা দিয়ে রোগ নিশ্চিত করা যায় না। তবে কিছু বৈশিষ্ট্য চিকিৎসককে প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে।

নরম ও সহজে নড়াচড়া করা গুটি

সম্ভাব্য কারণ—

  • লিপোমা
  • ছোট সিস্ট
  • ভেনাস ম্যালফরমেশন

শক্ত ও হাড়ের সঙ্গে স্থির গুটি

সম্ভাব্য কারণ—

  • অস্টিওমা
  • খুলির হাড়ের ক্ষত
  • পাইলোম্যাট্রিকোমা
  • ক্যালসিফায়েড সিস্ট

লাল বা নীলচে গুটি

সম্ভাব্য কারণ—

  • হেম্যানজিওমা
  • ভাসকুলার ম্যালফরমেশন
  • প্রদাহ বা সংক্রমণ

জন্মগত মধ্যরেখার গুটি

সম্ভাব্য কারণ—

  • ডারময়েড সিস্ট
  • অ্যাট্রেটিক এনকেফালোসিল
  • মেনিনগোসিল
  • সাইনাস পেরিক্রানি

এই ধরনের গুটির ক্ষেত্রে ভেতরের সংযোগ বাদ না দিয়ে কোনো অপারেশন বা বায়োপসি করা উচিত নয়।

কোন লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন—

  • গুটি দ্রুত বড় হচ্ছে
  • গুটিতে ব্যথা বা লালভাব
  • বারবার রক্তপাত
  • পুঁজ বা স্বচ্ছ তরল বের হচ্ছে
  • গুটি থেকে দুর্গন্ধ হচ্ছে
  • শিশুর জ্বর আছে
  • মাথার খুলিতে গর্ত বা নরম অংশ মনে হচ্ছে
  • জন্মগত মধ্যরেখার গুটি
  • কান্না বা মাথা নিচু করলে গুটি বড় হয়
  • গুটিতে স্পন্দন অনুভূত হয়
  • চোখ, কান বা মুখের গঠন আক্রান্ত হচ্ছে
  • মাথাব্যথা, বমি বা খিঁচুনি হচ্ছে
  • শিশুর দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তি বদলে যাচ্ছে
  • অপারেশনের পর গুটি আবার হয়েছে
  • শরীরের অন্য জায়গায়ও গুটি রয়েছে

মাথার চামড়ার গুটি নির্ণয়ে কী কী পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে?

সব শিশুর জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। গুটির ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী পরীক্ষা নির্বাচন করা হয়।

আল্ট্রাসনোগ্রাম

নরম টিস্যুর গুটি, সিস্ট বা রক্তনালির প্রবাহ মূল্যায়নে আল্ট্রাসনোগ্রাম সহায়ক হতে পারে।

Doppler Ultrasound

গুটির ভেতরে রক্তপ্রবাহ আছে কি না এবং এটি ভাসকুলার ক্ষত কি না তা জানতে Doppler করা হয়।

CT Scan

মাথার খুলির হাড়ের সঙ্গে গুটির সম্পর্ক বুঝতে CT Scan গুরুত্বপূর্ণ।

এতে দেখা যায়—

  • খুলির হাড়ে ক্ষয়
  • হাড়ের ত্রুটি
  • ক্যালসিফিকেশন
  • মাথার ভেতরে বিস্তার
  • অপারেশনের জন্য হাড়ের গঠন

MRI

MRI-এর মাধ্যমে নরম টিস্যু, মস্তিষ্কের আবরণ, রক্তনালি, নার্ভ ও মাথার ভেতরের গঠনের সঙ্গে সংযোগ ভালোভাবে বোঝা যায়।

মধ্যরেখার জন্মগত গুটি, গভীর ক্ষত বা এনকেফালোসিলের সন্দেহে MRI গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

MR Venography বা CT Venography

সাইনাস পেরিক্রানি বা মাথার ভেতরের ভেনাস সাইনাসের সঙ্গে সংযোগের সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

বায়োপসি ও হিস্টোপ্যাথলজি

রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করতে গুটি থেকে টিস্যু সংগ্রহ করা হতে পারে। অনেক সময় সম্পূর্ণ গুটি অপসারণ করে টিস্যু পরীক্ষায় পাঠানো হয়।

তবে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন, এনকেফালোসিল বা ভেনাস সাইনাসের সঙ্গে সংযুক্ত গুটিতে ইমেজিং ছাড়া সরাসরি বায়োপসি বিপজ্জনক হতে পারে।

শিশুদের মাথার চামড়ার টিউমারের চিকিৎসা

চিকিৎসা নির্ভর করে—

  • গুটির ধরন
  • জন্মগত নাকি পরে হয়েছে
  • আকার ও বৃদ্ধির গতি
  • মাথার খুলি বা মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ
  • রক্তনালির সম্পৃক্ততা
  • ব্যথা, সংক্রমণ বা রক্তপাত
  • শিশুর বয়স
  • রোগটি বিনাইন নাকি ম্যালিগন্যান্ট

পর্যবেক্ষণ

ছোট, নিশ্চিতভাবে বিনাইন এবং কোনো সমস্যা সৃষ্টি করছে না—এমন কিছু গুটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

ওষুধ

হেম্যানজিওমা, সংক্রমণ বা নির্দিষ্ট প্রদাহজনিত রোগে ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। সব গুটি ওষুধে ভালো হয় না।

সার্জারি

নিচের ক্ষেত্রে অপারেশন বিবেচনা করা হতে পারে—

  • গুটি বড় হচ্ছে
  • বারবার সংক্রমণ
  • ব্যথা বা রক্তপাত
  • রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন
  • মাথার খুলির ক্ষয়
  • সৌন্দর্যগত বা কার্যকর সমস্যা
  • গভীর সংযোগ নিরাপদভাবে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব
  • ম্যালিগন্যান্সির সন্দেহ

স্ক্লেরোথেরাপি বা এম্বোলাইজেশন

ভাসকুলার ম্যালফরমেশনে ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজি বা এন্ডোভাসকুলার পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হতে পারে।

কেমোথেরাপি বা অন্যান্য অনকোলজি চিকিৎসা

ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা বিস্তৃত LCH-তে পেডিয়াট্রিক হেমাটোলজি বা অনকোলজি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

বাবা-মায়ের কী করা উচিত নয়?

শিশুর মাথার চামড়ায় গুটি দেখলে—

  • জোরে চাপ দেবেন না
  • বারবার মালিশ করবেন না
  • সুচ দিয়ে ছিদ্র করবেন না
  • নিজে তরল বা পুঁজ বের করবেন না
  • ধারালো কিছু দিয়ে কাটবেন না
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড বা অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না
  • ভাসকুলার গুটিতে বায়োপসি করানোর আগে ইমেজিং বাদ দেবেন না
  • মধ্যরেখার জন্মগত গুটিকে সাধারণ সিস্ট ধরে অপারেশন করাবেন না
  • দ্রুত বড় হওয়া গুটি মাসের পর মাস ফেলে রাখবেন না

মাথার চামড়ার টিউমারের চিকিৎসার জন্য কেন নেফাউর’স নিউরো কেয়ারে আসবেন?

শিশু-কেন্দ্রিক স্ক্যাল্প, স্কাল ও নিউরোসার্জিক্যাল মূল্যায়ন

নেফাউর’স নিউরো কেয়ারে জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মাথার চামড়া, মাথার খুলি, ব্রেইন, নার্ভ, স্পাইন এবং সংশ্লিষ্ট নিউরোসার্জিক্যাল রোগের মূল্যায়ন করা হয়।

শিশুর মাথার গুটি চিকিৎসার সময় মাথার খুলির বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের নিরাপত্তা, রক্তনালি এবং ভবিষ্যৎ বিকাশ বিবেচনা করা জরুরি।

গুটির গভীর সংযোগ মূল্যায়ন

মাথার চামড়ার সব গুটি শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কিছু গুটির সঙ্গে—

  • মাথার খুলি
  • মস্তিষ্কের আবরণ
  • ভেনাস সাইনাস
  • রক্তনালি
  • নার্ভ
  • মাথার ভেতরের অংশ

যুক্ত থাকতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী Ultrasound, CT Scan, MRI, MR Venography বা অন্যান্য পরীক্ষা পরিকল্পনা করা হয়।

রোগের ধরনভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা

ডারময়েড সিস্ট, এপিডারময়েড সিস্ট, লিপোমা, পাইলোম্যাট্রিকোমা, ভাসকুলার ম্যালফরমেশন, সাইনাস পেরিক্রানি, নিউরোফাইব্রোমা, এনকেফালোসিল বা খুলির হাড়ের টিউমারের চিকিৎসা এক নয়।

শিশুর গুটির ধরন, অবস্থান ও বিস্তার অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, ওষুধ, সার্জারি, বায়োপসি বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়।

নিরাপদ সার্জিক্যাল পরিকল্পনা

অপারেশনের আগে গুটির সঙ্গে রক্তনালি, মাথার খুলি ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক বোঝা জরুরি। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাত, CSF লিক বা স্নায়বিক ক্ষতির ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা করা যায়।

অভিভাবক কাউন্সেলিং

অভিভাবকদের সহজ ভাষায় বোঝানো হয়—

  • গুটিটি কী ধরনের হতে পারে
  • কোন পরীক্ষা কেন প্রয়োজন
  • অপারেশন লাগতে পারে কি না
  • টিস্যু পরীক্ষা কেন করা হয়
  • সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ফলাফল
  • চিকিৎসার পর কীভাবে যত্ন নিতে হবে
  • কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

সমন্বিত বিশেষজ্ঞ সেবা

প্রয়োজন অনুযায়ী পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জারি, চর্মরোগ, প্লাস্টিক সার্জারি, শিশু বিশেষজ্ঞ, রেডিওলজি, প্যাথলজি, হেমাটোলজি বা অনকোলজি বিশেষজ্ঞের সমন্বিত পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ

চিকিৎসার পর পর্যবেক্ষণ করা হয়—

  • ক্ষতস্থান
  • নতুন করে গুটি হওয়া
  • মাথার খুলির বৃদ্ধি
  • টিউমার পুনরায় হচ্ছে কি না
  • দৃষ্টি ও শ্রবণ
  • স্নায়বিক লক্ষণ
  • শিশুর সামগ্রিক বৃদ্ধি ও বিকাশ

বাবা-মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

শিশুর মাথার চামড়ার বেশিরভাগ গুটি বিনাইন বা চিকিৎসাযোগ্য হতে পারে। তবে গুটির বাহ্যিক চেহারা দেখে এটি সাধারণ সিস্ট, রক্তনালির ক্ষত, মাথার খুলির টিউমার নাকি মাথার ভেতরের সঙ্গে সংযুক্ত জন্মগত সমস্যা—তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

বিশেষ করে জন্মগত মধ্যরেখার গুটি, স্পন্দিত ফোলা, কান্নার সময় বড় হয়ে যাওয়া গুটি, বারবার রক্তপাত, দ্রুত বৃদ্ধি অথবা মাথার খুলিতে গর্ত থাকলে দ্রুত পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জিক্যাল মূল্যায়ন জরুরি।

সময়মতো সঠিক পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক শিশুর মাথার চামড়ার টিউমার বা গুটি নিরাপদভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

নেফাউর’স নিউরো কেয়ারে যোগাযোগ

ঠিকানা:
হাউস নং ২৪/১, লেভেল নং ৭, শ্যামলী স্কয়ার, শ্যামলী সিনেমা হল বিল্ডিং, মিরপুর রোড, শ্যামলী, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।

সিরিয়াল ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট:
০১৮১৬-৮৯৯৪৮৯
০১৩৩৬-৩৩১৮১৮

ওয়েবসাইট:
https://www.bdpaediatricneurocare.com

Facebook:
https://www.facebook.com/NafaursNeurocare

Instagram:
https://www.instagram.com/neurocarebd

TikTok:
https://www.tiktok.com/@nafaurs.neurocare

YouTube:
https://www.youtube.com/@nafaursneurocare

Click to Chat

Click to Chat
Scroll to Top