শিশুদের হাইড্রোকেফালাস: কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসা

শিশুদের হাইড্রোকেফালাস: কারণ, লক্ষণ, পরীক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসা

শিশুর মাথা অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাওয়া, মাথার সামনের অংশ ফুলে ওঠা, চোখ নিচের দিকে নেমে থাকা, বারবার বমি, খিঁচুনি কিংবা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বিলম্ব—এসব লক্ষণ কখনো কখনো হাইড্রোকেফালাস নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে শিশুর মস্তিষ্কের ওপর চাপ তৈরি হয়ে দৃষ্টি, বুদ্ধিবিকাশ, চলাফেরা ও দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশে শিশুদের হাইড্রোকেফালাসের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞ পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জনের মূল্যায়ন, সঠিক নিউরোইমেজিং এবং রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে পরিকল্পিত চিকিৎসা। নেফাউর’স নিউরোকেয়ার জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ব্রেইন, নার্ভ, স্পাইন, স্ট্রোক ও সংশ্লিষ্ট নিউরোলজিক্যাল এবং নিউরোসার্জিক্যাল সমস্যার মূল্যায়ন ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

হাইড্রোকেফালাস কী?

আমাদের মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের চারপাশে একটি স্বচ্ছ তরল থাকে, যাকে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড বা CSF বলা হয়। এই তরল মস্তিষ্ককে আঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়, পুষ্টি পরিবহনে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখে।

মস্তিষ্কের ভেতরের ভেন্ট্রিকল বা তরলপূর্ণ গহ্বরে CSF অতিরিক্ত জমে গেলে ভেন্ট্রিকলগুলো বড় হয়ে যায় এবং মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই অবস্থাকে হাইড্রোকেফালাস বলা হয়।

সহজভাবে বলতে গেলে, CSF তৈরি, চলাচল ও শোষণের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হলে হাইড্রোকেফালাস হতে পারে।

শিশুদের হাইড্রোকেফালাস কেন হয়?

শিশুদের হাইড্রোকেফালাস জন্মগত অথবা জন্মের পর বিভিন্ন কারণে হতে পারে।

জন্মগত হাইড্রোকেফালাসের কারণ

জন্মের আগে বা জন্মের সময় উপস্থিত সমস্যাকে জন্মগত হাইড্রোকেফালাস বলা হয়। এর সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • মস্তিষ্কের CSF চলাচলের পথ জন্মগতভাবে সরু বা বন্ধ থাকা
  • অ্যাকুইডাক্টাল স্টেনোসিস
  • মাইলোমেনিনগোসিল বা স্পাইনা বিফিডা
  • ড্যান্ডি–ওয়াকার ম্যালফরমেশন
  • কিয়ারি ম্যালফরমেশন
  • জন্মগত মস্তিষ্কের গঠনগত অস্বাভাবিকতা
  • গর্ভাবস্থায় কিছু সংক্রমণ
  • জেনেটিক বা ক্রোমোজোমাল সমস্যা

জন্মের পর হাইড্রোকেফালাসের কারণ

জন্মের পরেও বিভিন্ন রোগ বা জটিলতার কারণে হাইড্রোকেফালাস হতে পারে। যেমন—

  • মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের সংক্রমণ
  • নবজাতকের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
  • অপরিণত শিশুর ইন্ট্রাভেন্ট্রিকুলার হেমোরেজ
  • ব্রেইন টিউমার
  • মস্তিষ্কের সিস্ট
  • মাথায় গুরুতর আঘাত
  • নিউরোসার্জারির পর CSF চলাচলে বাধা
  • মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক
  • কিছু পরজীবী বা প্রদাহজনিত রোগ

হাইড্রোকেফালাস কত প্রকার?

CSF চলাচলের প্রতিবন্ধকতার ধরন অনুযায়ী হাইড্রোকেফালাসকে সাধারণত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।

অবস্ট্রাকটিভ বা নন-কমিউনিকেটিং হাইড্রোকেফালাস

মস্তিষ্কের ভেতরে CSF প্রবাহের কোনো নির্দিষ্ট পথ বন্ধ হয়ে গেলে এই ধরনের হাইড্রোকেফালাস হয়। অ্যাকুইডাক্টাল স্টেনোসিস, ব্রেইন টিউমার বা সিস্ট এর কারণ হতে পারে।

কমিউনিকেটিং হাইড্রোকেফালাস

CSF মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল থেকে বের হতে পারলেও সঠিকভাবে শোষিত না হলে কমিউনিকেটিং হাইড্রোকেফালাস হতে পারে। মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

জন্মগত হাইড্রোকেফালাস

শিশু জন্মের সময় বা জন্মের আগেই এই সমস্যা তৈরি হয়।

অর্জিত বা অ্যাকোয়ার্ড হাইড্রোকেফালাস

সংক্রমণ, টিউমার, আঘাত, রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো রোগের কারণে জন্মের পর হাইড্রোকেফালাস তৈরি হলে তাকে অ্যাকোয়ার্ড হাইড্রোকেফালাস বলা হয়।

নবজাতক ও ছোট শিশুদের হাইড্রোকেফালাসের লক্ষণ

নবজাতক ও ছোট শিশুদের মাথার হাড় সম্পূর্ণভাবে জোড়া না লাগায় মাথার আকার দ্রুত বড় হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো হলো—

  • বয়সের তুলনায় মাথার পরিধি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া
  • মাথা অস্বাভাবিক বড় হয়ে যাওয়া
  • মাথার সামনের নরম অংশ বা ফন্টানেল ফুলে থাকা
  • মাথার ত্বকের শিরা স্পষ্ট হয়ে যাওয়া
  • কপাল অস্বাভাবিকভাবে উঁচু বা প্রশস্ত দেখানো
  • চোখ নিচের দিকে নেমে থাকা বা ‘সানসেট আই’ দেখা দেওয়া
  • বারবার বমি
  • অতিরিক্ত কান্না বা বিরক্তি
  • খাওয়ায় অনীহা
  • অতিরিক্ত ঘুম বা নিস্তেজতা
  • খিঁচুনি
  • ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
  • শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বিলম্ব
  • মাথা ধরে রাখতে, বসতে বা হাঁটতে দেরি হওয়া

বড় শিশু ও কিশোরদের হাইড্রোকেফালাসের লক্ষণ

বড় শিশুদের মাথার হাড় শক্ত হয়ে যাওয়ায় মাথার আকার সবসময় বাড়ে না। তাদের মধ্যে দেখা দিতে পারে—

  • বারবার বা তীব্র মাথাব্যথা
  • সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা
  • বমি বা বমি বমি ভাব
  • ঝাপসা দেখা বা ডাবল ভিশন
  • চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
  • হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা
  • পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
  • আচরণে পরিবর্তন
  • অতিরিক্ত ঘুম বা দুর্বলতা
  • খিঁচুনি
  • স্মৃতিশক্তি বা শেখার ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
  • অচেতনতা বা দ্রুত সাড়া কমে যাওয়া

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বারবার বমি, খিঁচুনি, অচেতনতা বা দৃষ্টিশক্তির আকস্মিক পরিবর্তন হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

হাইড্রোকেফালাস কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

হাইড্রোকেফালাস নির্ণয়ের জন্য শিশুর পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা, মাথার পরিধি পরিমাপ, স্নায়বিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ইমেজিং পরীক্ষা করা হয়।

নিউরোসোনোগ্রাম বা ক্র্যানিয়াল আল্ট্রাসাউন্ড

শিশুর মাথার ফন্টানেল খোলা থাকলে আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল দেখা যেতে পারে। এটি নবজাতক ও ছোট শিশুদের জন্য উপকারী একটি পরীক্ষা।

সিটি স্ক্যান

জরুরি পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকলের আকার, রক্তক্ষরণ, টিউমার বা CSF চলাচলের বাধা সম্পর্কে দ্রুত ধারণা পেতে সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।

এমআরআই

মস্তিষ্কের গঠন, CSF চলাচলের পথ, অ্যাকুইডাক্টাল স্টেনোসিস, টিউমার, সিস্ট এবং অন্যান্য জন্মগত অস্বাভাবিকতা বিস্তারিতভাবে মূল্যায়নের জন্য এমআরআই গুরুত্বপূর্ণ।

চোখ ও দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা

মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ বেড়ে গেলে অপটিক নার্ভে পরিবর্তন হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চক্ষু বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন করা হয়।

হাইড্রোকেফালাসের চিকিৎসা

হাইড্রোকেফালাসের চিকিৎসা রোগীর বয়স, কারণ, উপসর্গ, মস্তিষ্কের চাপ, ভেন্ট্রিকলের আকার এবং শিশুর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত CSF-এর চাপ কমানোর জন্য নিউরোসার্জিক্যাল চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

ভিপি শান্ট সার্জারি

ভেন্ট্রিকুলো-পেরিটোনিয়াল শান্ট বা VP Shunt হাইড্রোকেফালাসের বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসা। এই পদ্ধতিতে মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকলে একটি সূক্ষ্ম টিউব স্থাপন করে অতিরিক্ত CSF পেটের ভেতরে পাঠানো হয়। সেখানে শরীর স্বাভাবিকভাবে তরলটি শোষণ করে নেয়।

একটি VP শান্টে সাধারণত ক্যাথেটার, ভালভ ও ডিস্টাল টিউব থাকে। ভালভ CSF প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

VP Shunt-এর পর ফলোআপ কেন জরুরি?

শান্ট দীর্ঘদিন ভালোভাবে কাজ করতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে শান্ট ব্লক, সংক্রমণ, অতিরিক্ত ড্রেনেজ, কম ড্রেনেজ বা টিউবের স্থান পরিবর্তনের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই নিয়মিত ফলোআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শান্ট অপারেশনের পর নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে—

  • পুনরায় মাথাব্যথা ও বমি
  • শিশুর অতিরিক্ত ঘুম বা নিস্তেজতা
  • খিঁচুনি
  • শান্টের পথে লালচে ভাব বা ফোলা
  • জ্বর
  • ক্ষতস্থান থেকে তরল বের হওয়া
  • মাথার নরম অংশ ফুলে ওঠা
  • দৃষ্টিশক্তি বা আচরণে পরিবর্তন

এন্ডোস্কোপিক থার্ড ভেন্ট্রিকুলোস্টমি বা ETV

নির্বাচিত কিছু অবস্ট্রাকটিভ হাইড্রোকেফালাস রোগীর ক্ষেত্রে Endoscopic Third Ventriculostomy বা ETV করা যায়। এই পদ্ধতিতে এন্ডোস্কোপের সাহায্যে মস্তিষ্কের তৃতীয় ভেন্ট্রিকলের তলায় একটি বিকল্প পথ তৈরি করা হয়, যাতে CSF বাধাগ্রস্ত অংশ এড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে।

সব রোগী ETV-এর জন্য উপযুক্ত নয়। শিশুর বয়স, হাইড্রোকেফালাসের কারণ, পূর্ববর্তী সংক্রমণ, মস্তিষ্কের গঠন এবং ইমেজিং ফলাফল বিবেচনা করে পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জন সিদ্ধান্ত নেন।

ETV with CPC

কিছু নির্বাচিত শিশু, বিশেষ করে নির্দিষ্ট বয়স ও নির্দিষ্ট ধরনের হাইড্রোকেফালাসে ETV-এর সঙ্গে Choroid Plexus Cauterization বা CPC বিবেচনা করা হতে পারে। CPC-এর মাধ্যমে CSF উৎপাদন কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়। রোগী নির্বাচন এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

ভেন্ট্রিকুলো-সাবগেলিয়াল শান্ট বা VSG Shunt

অপরিণত নবজাতকের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর সাময়িকভাবে হাইড্রোকেফালাস তৈরি হলে নির্বাচিত ক্ষেত্রে Ventriculo-Subgaleal Shunt বা VSG Shunt ব্যবহার করা হতে পারে। এটি অনেক সময় স্থায়ী শান্ট দেওয়ার আগে সাময়িক CSF ডাইভারশন পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওষুধে কি হাইড্রোকেফালাস ভালো হয়?

সাধারণভাবে ওষুধ হাইড্রোকেফালাসের মূল বাধা বা CSF জমে যাওয়ার স্থায়ী সমাধান করে না। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু অপারেশনের প্রয়োজন হলে কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর করলে চিকিৎসায় দেরি হতে পারে।

চিকিৎসায় দেরি হলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

মস্তিষ্কের ওপর দীর্ঘদিন চাপ থাকলে শিশুর—

  • দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
  • খিঁচুনি হতে পারে
  • বুদ্ধিবিকাশ ব্যাহত হতে পারে
  • কথা বলা ও শেখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে
  • হাত-পায়ের শক্তি ও চলাফেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
  • স্কুলের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে
  • স্থায়ী স্নায়বিক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে
  • গুরুতর অবস্থায় জীবনহানির ঝুঁকি হতে পারে

তাই শিশুর মাথা দ্রুত বড় হওয়া বা হাইড্রোকেফালাসের সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হাইড্রোকেফালাসের চিকিৎসার পর শিশুর ভবিষ্যৎ

সময়মতো রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে অনেক শিশু স্বাভাবিক বা প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। তবে ফলাফল নির্ভর করে—

  • হাইড্রোকেফালাসের মূল কারণ
  • চিকিৎসার আগের মস্তিষ্কের ক্ষতির মাত্রা
  • শিশুর বয়স
  • সংক্রমণ বা রক্তক্ষরণ ছিল কি না
  • শান্ট বা ETV কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে
  • নিয়মিত ফলোআপ হচ্ছে কি না
  • ফিজিওথেরাপি, স্পিচ থেরাপি বা অন্যান্য পুনর্বাসন প্রয়োজন কি না

কিছু শিশুর বিকাশগত বিলম্ব, দুর্বলতা, দৃষ্টির সমস্যা বা শেখার অসুবিধা থাকতে পারে। তাদের জন্য পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পিচ থেরাপিস্ট ও ডেভেলপমেন্টাল বিশেষজ্ঞের সমন্বিত সেবা প্রয়োজন হতে পারে।

হাইড্রোকেফালাসের চিকিৎসার জন্য কেন নেফাউর’স নিউরোকেয়ার?

বাংলাদেশে শিশুর হাইড্রোকেফালাসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিবারগুলো এমন একটি সেবা প্রতিষ্ঠান খোঁজে, যেখানে রোগের কারণ, শিশুর বয়স, নিউরোইমেজিং এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বিবেচনা করে একটি সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।

শিশু-কেন্দ্রিক নিউরোকেয়ার

নেফাউর’স নিউরোকেয়ারে জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ব্রেইন, নার্ভ, স্পাইন, স্ট্রোক এবং সংশ্লিষ্ট নিউরোলজিক্যাল ও নিউরোসার্জিক্যাল সমস্যার মূল্যায়ন করা হয়। শিশুদের শারীরিক গঠন, রোগের ধরন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন বড়দের থেকে আলাদা—তাই শিশু-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ।

পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জিক্যাল মূল্যায়ন

হাইড্রোকেফালাসের ক্ষেত্রে শুধু মাথার আকার বড় হলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। শিশুর লক্ষণ, মাথার পরিধির পরিবর্তন, বিকাশ, চোখের অবস্থা, নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা এবং স্ক্যানের ফলাফল একসঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

রোগীভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা

সব শিশুর জন্য একই চিকিৎসা উপযুক্ত নয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, VP Shunt, ETV, ETV with CPC, VSG Shunt অথবা মূল রোগের চিকিৎসা বিবেচনা করা হতে পারে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ইমেজিং সমন্বয়

প্রয়োজন অনুযায়ী নিউরোসোনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং অন্যান্য পরীক্ষা নির্ধারণ ও সমন্বয়ে সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পরিকল্পনা আরও সুশৃঙ্খলভাবে করা যায়।

অপারেশনের আগে ও পরে পরামর্শ

অপারেশনের প্রয়োজন, সম্ভাব্য পদ্ধতি, ঝুঁকি, প্রত্যাশিত ফলাফল, হাসপাতাল-পরবর্তী যত্ন, শান্টের সতর্কসংকেত এবং ফলোআপ সম্পর্কে অভিভাবকদের পরিষ্কার ধারণা দেওয়া চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ

হাইড্রোকেফালাস অনেক শিশুর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন একটি অবস্থা। শিশুর মাথার বৃদ্ধি, বিকাশ, দৃষ্টি, খিঁচুনি, স্কুল পারফরম্যান্স এবং শান্ট বা ETV-এর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

সমন্বিত নিউরোডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট

হাইড্রোকেফালাসের সঙ্গে বিকাশগত বিলম্ব, চলাফেরার সমস্যা, কথা বলায় দেরি বা শেখার অসুবিধা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি, স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, ডেভেলপমেন্টাল থেরাপি এবং অন্যান্য সহায়ক সেবার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

অভিভাবকবান্ধব পরিবেশ

শিশুর অসুস্থতা নিয়ে পরিবারের ভয়, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা থাকা স্বাভাবিক। নেফাউর’স নিউরোকেয়ারে রোগের অবস্থা ও চিকিৎসার সম্ভাব্য ধাপ সহজ ভাষায় বোঝানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন—

  • শিশুর মাথা দ্রুত বড় হচ্ছে
  • মাথার নরম অংশ ফুলে আছে
  • চোখ নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে
  • বারবার বমি হচ্ছে
  • খিঁচুনি হচ্ছে
  • শিশু অস্বাভাবিক ঘুমাচ্ছে বা সাড়া কম দিচ্ছে
  • মাথাব্যথার সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি কমছে
  • হাঁটাচলায় ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে
  • আগে বসতে বা হাঁটতে পারলেও এখন পারছে না
  • VP Shunt থাকা শিশুর জ্বর, বমি, মাথাব্যথা বা শান্টের পথে ফোলা দেখা দিয়েছে

শিশু অচেতন হয়ে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, দীর্ঘসময় খিঁচুনি চললে বা দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

নেফাউর’স নিউরোকেয়ারে যোগাযোগ

ঠিকানা:
হাউস নং ২৪/১, লেভেল নং ৭, শ্যামলী স্কয়ার, শ্যামলী সিনেমা হল বিল্ডিং, মিরপুর রোড, শ্যামলী, ঢাকা–১২০৭, বাংলাদেশ।

সিরিয়াল ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট:
০১৮১৬-৮৯৯৪৮৯
০১৩৩৬-৩৩১৮১৮

ওয়েবসাইট:
https://www.bdpaediatricneurocare.com

Facebook:
https://www.facebook.com/NafaursNeurocare

Instagram:
https://www.instagram.com/neurocarebd

TikTok:
https://www.tiktok.com/@nafaurs.neurocare

YouTube:
https://www.youtube.com/@nafaursneurocare

গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

হাইড্রোকেফালাস মানেই শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার—এ ধারণা সঠিক নয়। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উপযুক্ত নিউরোসার্জিক্যাল চিকিৎসা, নিয়মিত ফলোআপ এবং প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন পেলে অনেক শিশু উন্নত জীবনযাপন করতে পারে। তবে চিকিৎসায় অযথা বিলম্ব মস্তিষ্কের ওপর স্থায়ী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

শিশুর মাথা অস্বাভাবিকভাবে বড় হওয়া, চোখ নিচের দিকে নেমে যাওয়া, বারবার বমি, খিঁচুনি বা বিকাশে বিলম্ব দেখা দিলে দ্রুত পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জিক্যাল মূল্যায়ন করান।

নেফাউর’স নিউরোকেয়ার—শিশুর ব্রেইন, নার্ভ ও স্পাইনের সমস্যায় বিশেষায়িত ও সমন্বিত নিউরোকেয়ার।

Scroll to Top